লভ্যাংশ সমিতির সবচেয়ে আনন্দের ঘোষণা, আর সবচেয়ে বিপজ্জনকও। কারণ একবার ঘোষণা করলে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না, আর ভুল হিসাবে ঘোষণা করলে সমিতির মূলধন থেকে টাকা বেরিয়ে যায়।
ঘোষণার আগে তিনটে জিনিস
এক, আসল লাভ কত — লাভ-ক্ষতি হিসাব থেকে, যেখানে সঞ্চয়ে দেওয়া মুনাফা ও প্রভিশন বাদ দেওয়া আছে। দুই, হাতে টাকা আছে কি — নগদ প্রবাহ থেকে। তিন, সঞ্চিতিতে কত রাখবেন।
লাভ আছে কিন্তু হাতে টাকা নেই — এটা খুব সাধারণ, কারণ লাভের টাকা ঋণে খাটছে। তখন লভ্যাংশ ঘোষণা করলে উত্তোলনের চাপে পড়বেন।
- লাভ-ক্ষতি হিসাব — আসল লাভ
- নগদ প্রবাহ — হাতে টাকা
- সঞ্চিতির অংশ — কমিটির নিয়ম
- শেয়ার তালিকা — কার কয়টা
হিসাব কীভাবে হয়
বিতরণযোগ্য অঙ্ক ঠিক করে শেয়ারের অনুপাতে ভাগ করুন। অ্যাপে শেয়ারের তালিকা ধরে এটা হিসাব হয়, তাই কার কত পাওনা তা নিজে গুনতে হয় না।
প্রতিটি সদস্যের লভ্যাংশ তাঁর হিসাবে জমা হবে নাকি নগদে দেওয়া হবে — এটা কমিটি ঠিক করুক। জমা করে দেওয়াই নিরাপদ, কারণ তখন হাতের টাকা বের হয় না।
পুরোটা বিতরণ করবেন না
লাভের একটা অংশ সঞ্চিতিতে রাখুন — কত শতাংশ, সেটা নিয়ম করে সভায় পাস করিয়ে নিন। প্রতি বছর নতুন করে তর্ক করলে ভালো বছরে সবাই পুরোটা চাইবেন।
খারাপ বছর আসবে — খেলাপি বাড়বে, বড় উত্তোলন আসবে। সেই বছরে এই সঞ্চিতিই সমিতিকে টিকিয়ে রাখে।
লভ্যাংশ লাভ থেকে দিন, জমা থেকে নয়। আর পুরোটা নয় — একটা অংশ ভবিষ্যতের জন্য রাখুন।


