সঞ্চয়ে মুনাফা দেওয়া সমিতির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, আর সবচেয়ে বড় দায়ও। হার ঠিক করার আগে বুঝে নিতে হয় — এই টাকা কোথা থেকে আসবে, আর প্রতি মাসে কত বাড়তি দায় তৈরি হবে।
মুনাফা কোন স্থিতির উপর
সাধারণ সঞ্চয়ে সদস্যের স্থিতি প্রতিদিন বদলায় — কেউ জমা দেন, কেউ তোলেন। তাই মুনাফা বসানোর নিয়ম আগে ঠিক করে নিতে হয় আর সেটা সবার জন্য একই রাখতে হয়।
অ্যাপে সঞ্চয়ের মাসিক মুনাফা বসানোর ব্যবস্থা আছে, আর বসানোর সাথে সাথেই সেটা সদস্যের স্থিতিতে যোগ হয় আর সমিতির খরচের খাতে বসে — দুই দিকেই।
মুনাফা সমিতির খরচ, মনে রাখুন
সদস্যকে দেওয়া মুনাফা সমিতির আয় নয়, খরচ। এটা ভুলে গেলে লাভ-ক্ষতি হিসাব ভুল দেখায় আর মালিক ভাবেন সমিতি বেশি লাভ করছে।
তাই হার ঠিক করার আগে দেখুন — ঋণ থেকে যে মুনাফা আসছে, তা থেকে পরিচালনার খরচ বাদ দিয়ে কত থাকছে। সঞ্চয়ের মুনাফা ওই অবশিষ্টের চেয়ে বেশি হলে সমিতি প্রতি মাসে ক্ষয় হচ্ছে।
- ঋণ থেকে আসা মুনাফা — আয়
- পরিচালনার খরচ — বেতন, যাতায়াত, SMS
- সঞ্চয় ও ডিপিএসে দেওয়া মুনাফা — খরচ
- অবশিষ্ট = সমিতির আসল লাভ
হার বদলাতে হলে
হার কমাতে হলে আগে সদস্যদের জানান — নোটিশ বোর্ডে লিখুন, সভায় সিদ্ধান্ত নিন, কার্যবিবরণীতে তোলুন। না জানিয়ে কমালে সদস্য সেটা প্রতারণা হিসেবে দেখবেন।
আর কখনো প্রতিযোগিতার চাপে হার বাড়াবেন না। পাশের সমিতি বেশি দিচ্ছে মানে তারা ঠিক করছে, এমন নয় — বেশিরভাগ সময় মানে তারা অন্যের জমা থেকে মুনাফা দিচ্ছে।
মুনাফার হার প্রতিশ্রুতি, আর প্রতিশ্রুতি ভাঙলে সমিতি ভাঙে। যতটা দিতে পারবেন, ঠিক ততটাই ঘোষণা করুন।


