ভর্তি ফি আর সঞ্চয় — দুটো একদমই আলাদা জিনিস, কিন্তু খাতায় প্রায়ই এক ঘরে বসে যায়। ফলে বছর শেষে সদস্যের জমার মোট আর সমিতির আয়ের মোট — দুটোই ভুল দেখায়। অ্যাপে এই দুটো আলাদা পথে চলে।
ফি সমিতির আয়, সদস্যের জমা নয়
সদস্য ভর্তি ফি দিলেন — এই টাকা তিনি কখনো ফেরত পাবেন না। তাই এটা তাঁর সঞ্চয়ের স্থিতিতে যোগ হতে পারে না; এটা সমিতির আয়। একইভাবে পাসবই ফি বা সার্ভিস চার্জও আয়।
সঞ্চয় উল্টোটা — ওটা সমিতির দায়, কারণ একদিন সদস্যকে ফিরিয়ে দিতে হবে। দুটো এক ঘরে বসালে স্থিতিপত্রে দায় আর আয় মিশে যায়, আর লাভ-ক্ষতি হিসাব অর্থহীন হয়ে পড়ে।
অ্যাপে কীভাবে বসে
সদস্য ভর্তির সময় বা পরে ফি আদায় করলে টাকা ক্যাশ বা ব্যাংকে ঢোকে আর আয়ের খাতে বসে — ডাবল-এন্ট্রিতে দুই দিকেই। আপনাকে আলাদা করে জার্নাল লিখতে হয় না।
সদস্যের কাছ থেকে কোনো চার্জ কাটতে হলে সদস্য চার্জ কর্তনের ব্যবস্থাও আছে, আর সেটাও আয় হিসেবেই বসে।
- ভর্তি ফি — এককালীন, সমিতির আয়
- পাসবই বা ফর্ম ফি — আয়
- লোনের সার্ভিস চার্জ — আয়
- দেরির জরিমানা — আয়
- সঞ্চয়, ডিপিএস, এফডিআর, শেয়ার — দায় বা মূলধন, আয় নয়
কেন এটা বছর শেষে বড় হয়ে দাঁড়ায়
লভ্যাংশ বণ্টনের সময় আপনাকে জানতে হয় সমিতি সত্যিই কত আয় করল। ফি যদি সদস্যের জমায় মিশে থাকে, আয় কম দেখাবে আর লভ্যাংশও ভুল হিসাব হবে।
উল্টোদিকে সঞ্চয় যদি আয়ে বসে যায়, সমিতি নিজেকে লাভজনক ভাববে আর অন্যের টাকা লাভ ধরে বিলিয়ে দেবে — এটাই সমিতি ডোবার সবচেয়ে পরিচিত পথ।
ফি আয়, সঞ্চয় দায় — এই একটা লাইন মনে রাখলে হিসাবের অর্ধেক বিভ্রান্তি শেষ।


